বিস্কুটের যুদ্ধ

রবি আর টুবলু – দু’জনে ছোটবেলার বন্ধু। দুজনেই একই গ্রামের বাসিন্দা। গ্রামের একমাত্র চায়ের দোকানটা ছিল তাদের আড্ডার জায়গা। সেখানে বিকেল হলেই তারা বসে চা খেত আর সঙ্গে বিস্কুট। তবে তাদের বিস্কুট খাওয়ার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল প্রতিদিনের এক অদ্ভুত যুদ্ধ।

একদিন রবি আর টুবলু চায়ের দোকানে গিয়ে বসেছে। দোকানি তাদের সামনে বিস্কুটের একটা প্লেট রেখে গেল। টুবলু সবসময় চালাকি করে ভালো ভালো বিস্কুটগুলো আগে তুলে নিত। রবি অনেকদিন সহ্য করেছে, কিন্তু সেদিন আর চুপ থাকতে পারল না।

রবি বলল, “টুবলু, আজ তুই যদি একটাও বেশি বা ভালো বিস্কুট খাস, তবে খবর আছে। আজ আমি কিছু একটা করব।”

টুবলু মুচকি হেসে বলল, “করবি তো কি? তুই তো আমায় ভালোবাসিস, মারতে পারবি না।”

পরের দিন রবি পুরো প্ল্যান করে এল। সে বাজার থেকে বড় একটা বিস্কুটের প্যাকেট কিনে নিল। দোকানে গিয়ে বলল, “আজ প্লেট নয়, আমার প্যাকেট থেকে আমরা খাব।”

টুবলু খুশি হয়ে বলল, “বাহ! আজ দেখি রবি কত উদার। নতুন প্যাকেট এনেছে!”

কিন্তু টুবলু জানত না, রবি ওই প্যাকেটের ভেতরে অদ্ভুত এক কারসাজি করেছে। বিস্কুটের মধ্যে কিছুটা লঙ্কার গুঁড়ো আর তেঁতো পাউডার মিশিয়ে রেখেছে।

যখন চা আসল, টুবলু প্রথম বিস্কুট তুলে খেতে শুরু করল। মুখে বিস্কুট ঢোকানোর পর সে প্রথমে বুঝতে পারল না। তবে কয়েক সেকেন্ড পরই তার মুখ লাল হয়ে গেল। চোখ দিয়ে পানি পড়তে শুরু করল। সে গলা খাকরি দিয়ে দোকানির কাছে দৌড়ে গিয়ে পানি চাইল।

রবি চিৎকার করে বলল, “কী রে টুবলু, আজ ভালো লাগছে না? তোর জন্যই তো স্পেশাল বিস্কুট এনেছি!”

দোকানের সবাই হাসিতে ফেটে পড়ল। টুবলু আর মুখ তুলে তাকাতে পারছিল না। সে বলল, “ভাই রবি, আর করব না। এবার থেকে তুই যা বলবি, তাই খাব।”

এই ঘটনার পর থেকে টুবলু আর কখনো রবি সঙ্গে বিস্কুট নিয়ে চালাকি করেনি। কিন্তু এই ঘটনাটা আজও গ্রামের মানুষের মুখে মুখে গল্প হয়ে আছে।