গ্রামের এক কোণায় ছিল একটি পুরনো বাড়ি। বাড়ির বাসিন্দা ছিল দীপা ও তার পরিবার। তবে দীপা জানত না, তার ঘরের দরজার পেছনে লুকিয়ে আছে এক রহস্যময় কাহিনী।
সেদিন রাতের বেলা বৃষ্টি হচ্ছিল। দীপা পড়ার টেবিলে বসে লণ্ঠনের আলোয় বই পড়ছিল। গ্রামে বিদ্যুৎ ছিল না, তাই পুরো বাড়ি অন্ধকারে ঢাকা। হঠাৎ দীপার ঘরের দরজায় একটি মৃদু শব্দ হল। প্রথমে সে পাত্তা দিল না। কিন্তু মিনিট খানেক পর দরজাটা নিজে থেকে একটু ফাঁকা হয়ে গেল।
দীপা ভয়ে তাকাল দরজার দিকে। কেউ নেই। সে ভেবেছিল, হয়তো বাতাসের কারণে দরজা খুলে গেছে। সে দরজা বন্ধ করে আবার পড়তে বসল। কিন্তু এবার দরজায় জোরে কড়া নাড়ার শব্দ হল। দীপা চমকে উঠল।
সে ভয় কাটিয়ে দরজা খুলল, কিন্তু দরজার বাইরে কাউকে দেখা গেল না। হঠাৎ একটা ঠান্ডা বাতাস ঘরের ভেতরে ঢুকে দীপার শরীর কাঁপিয়ে দিল। সে দরজাটা ধাক্কা দিয়ে বন্ধ করল। কিন্তু এবার ঘরের ভেতর থেকে একটা মৃদু গলা শুনতে পেল, “দীপা… আমাকে সাহায্য করো…”
দীপা থতমত খেয়ে বলল, “কে? কে এখানে?” কিন্তু উত্তর এল না। সে ভয় পেয়ে তার মাকে ডাকল। তার মা ছুটে এলেন। দীপা তার মাকে সবকিছু জানাল। কিন্তু মা দরজা খুলে বললেন, “বাইরে তো কিছু নেই। হয়তো তুমি স্বপ্ন দেখেছ।”
এরপর রাতের বেলা দীপা বারবার অনুভব করতে লাগল, দরজা যেন নিজে থেকে খুলে যায়। আর সেই সঙ্গে শুনতে পেত কারও অস্পষ্ট কান্নার আওয়াজ।
একদিন গ্রামের পুরোহিতকে ডেকে আনা হল। পুরোহিত বললেন, “এই দরজার পেছনে এক আত্মা বন্দি। বহু বছর আগে এই বাড়িতে এক মেয়ে অন্যায়ভাবে খুন হয়েছিল। তার আত্মা মুক্তি পেতে চায়। সেই কারণেই সে দীপাকে সাহায্য চাইছে।”
পুরোহিতের উপদেশে সেই দরজার সামনে পূজা করা হল। আত্মা মুক্তি পেয়ে দীপার জীবনে শান্তি ফিরে এল। তবে গ্রামে আজও এই ঘটনা নিয়ে গল্পের শেষ নেই।
